কম টাকায় ব্যবসা শুরু করার আইডিয়া

কম টাকায় ব্যবসা শুরু করা সম্ভব না । সত্যিই কী তাই? নাকি উদ্ভাবনী, দক্ষতা, শ্রম আর সৃজনশীলতা দিয়ে নেহাতই অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করা সম্ভব?

কম টাকায় ব্যবসা শুরু করার আইডিয়া

উদ্ভাবনী, দক্ষতা, শ্রম আর সৃজনশীলতা দিয়ে নেহাতই কম টাকায় ব্যবসা শুরু করা সম্ভব?

আজ এরকমই ৩৫টি অল্প পুঁজিতে লাভজনক ছোট ব্যবসার আইডিয়া দেব আমরা। এই ছোট ব্যবসাগুলির মধ্যে থেকে নিজের পছন্দ, আগ্রহ ও দক্ষতা অনুযায়ী কোনও একটি বেছে নিয়ে আপনিও কম টাকায় লাভজনক ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

অল্প পুঁজিতে ব্যবসা করার উপায় বাতলাতেই এই তালিকা তৈরি করেছি আমরা। রয়েছে অনলাইন ব্যবসা আইডিয়া থেকে প্রচলিত ক্ষুদ্র ব্যবসা সহ স্বল্প মূলধনে ব্যবসা শুরুর নানান সুলুক সন্ধান।

১. ফাস্টফুড ডেলিভারি (Fast Food Delivery)

কম টাকায় ব্যবসা শুরু করতে হলে নিজের বাড়ি থেকেই ব্যবসা করুন। প্রয়োজন একটা রান্নাঘর, ভাল রান্নার কারিগর আর সুস্বাদু রেসিপি।

বর্তমানের জোম্যাটো সুইগির যুগে খাবার পৌঁছে দেওয়া নিয়েও আর ভাবতে হবে না আপনাকে। আপনার কাজ শুধু খাবার অর্ডার নেওয়া আর সেই মতো খাবার প্রস্তুত করা। তবে মনে রাখতে হবে কলকাতাসহ বাংলার বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে হাজারো খাবারের দোকান, তাই তাদের সাথে পাল্লা দিতে খাবারের গুণমান ও স্বাদের দিকে রাখতে হবে কড়া নজর আর নজর দিতে হবে অভিনব নতুন রেসিপিতে। দেশ বিদেশের নানা রেসিপি থেকে পেতে পারেন আইডিয়া।

২.ট্যুরিজম (Travel & Tourism)

কম টাকায় ব্যবসার কথা ভাবলে এটিই হতে পারে আপনার জন্য সবথেকে সহজ উপায়। এই ব্যবসা শুরু করতে বিনিয়োগ বিশেষ লাগে না, লাগে শ্রম, অধ্যাবসায়, আর বেড়ানোর প্যাশন। টিকিট কাটা, হোটেল বুকিং, বেড়ানোর পরিকল্পনা তৈরি ইত্যাদি ঝক্কি এড়াতে অনেকই ভরসা করেন বিভিন্ন এজেন্সির ওপর। সন্তোষজনক অভিজ্ঞতা হলে তাঁরাই ফিরে ফিরে আসেন প্রতিবছর।

এই ব্যবসা শুরু করতে প্রথমেই ঠিক করে নিতে হবে বেড়ানোর জায়গা। কীধরণের জায়গায় নিয়ে যেতে চান, কোন ধরণের হোটেলে রাখবেন পরিকল্পনা করে নিতে হবে গোটাটা। বিভিন্ন সামাজিক অর্থনৈতিক অবস্থার মানুষের চাহিদা বিভিন্নরকম, আপনি কাদের পরিষেবা দিতে চান ঠিক করে নিতে হবে সেই বিষয়।

এই ব্যবসায় বিনা বিনিয়োগে আয় করা সম্ভব। নতুন নতুন জায়গা খুঁজে বের করলে ব্যবসা বাড়ার সম্ভাবনা বেশি, পাশাপাশিই জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পটগুলোকেও রাখতে পারেন তালিকায়। সেইসব জায়গাগুলোর হোটেলের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করে নিন কত শতাংশ ছাড় বা এজেন্ট কমিশন দিতে প্রস্তুত তারা।

পাশাপাশিই বেড়াতে নিয়ে গিয়ে খাওয়ানোর ব্যবস্থা কী করবেন সেই নিয়েও ভাবনাচিন্তা করুন। হোটেলের খাবার না নিয়ে নিজেরা খাবার ব্যবস্থা করলে লাভ বেশি হবে। সেইমতো জোগাড়যন্ত্র করে এগোন।

৩. ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস

ছোট বড় বিভিন্ন সংস্থা তাদের নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব দেয় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলিকে। অত্যন্ত অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করা সম্ভব।

এই ব্যবসার জন্য প্রয়োজন দক্ষতা, পরিশ্রম, প্রত্যুত্পন্নমতিত্ব আর যোগাযোগ তৈরির ক্ষমতা। কাজের মাধ্যমেই নিজের কোম্পানিকে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ করতে হবে, তাহলেই মিলবে নতুন কাজ।

কম টাকায় ব্যবসা শুরু করুন ছোট ইভেন্ট দিয়ে পরে ধীরে ধীরে নতুন নতুন যোগাযোগ তৈরি করে ব্যবসা বাড়ান। কোন ধরণের ইভেন্ট আয়োজন করতে আপনি সবথেকে বেশি সাচ্ছন্দবোধ করেন তা চিহ্নিত করুন এবং সেই অনুযায়ী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ বাড়ার সাথে সাথে নতুন ধরণের ইভেন্টে হাত দিন।

৪.ব্লগ শুরু করুন

ঘরে বসে কম টাকায় ব্যবসা করার অন্যমত সহজ উপায় ব্লগ লেখা। গত এক দশকে পৃথিবীজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই ব্যবসা।

এই ব্যবসার জন্য প্রথমেই বেছে নিতে হবে আপনার পছন্দের বিষয়টি। এমন বিষয় বাছুন যা সময়ের সাথে সাথে অচল হয়ে যাবে না। বিষয়টি সম্পর্কে অবশ্যই আপনার জ্ঞান ও আগ্রহ থাকা প্রয়োজন, না হলে বেশিদিন চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবেনা।

পাশাপাশি দরকার ভাষার ওপর দখল ও লিখতে পারার ক্ষমতা। ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই সবথেকে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছনো সম্ভব, কিন্তু বর্তমানে আঞ্চলিক ভাষার ব্লগের চাহিদাও বাড়ছে। অনেকেই অনলাইনে মাতৃভাষায় পড়তে পছন্দ করেন।

ব্লগটির মাধ্যমে আপনি কোন পাঠকের কাছে পৌঁছতে চাইছেন সে বিষয় পরিষ্কার ধারণা থাকা আবশ্যিক। ব্লগের ভাষার ধরণ ও রচনা শৈলী নির্ভর করবে তার ওপর। অনলাইনে বিনামূল্যে ব্লগ তৈরির বিভিন্ন গাইড সহজেই পাওয়া যায়। কীভাবে খুব সহজেই ব্লগ তৈরি করবেন জানতে এখানে ক্লিক করুন।

ব্লগ তৈরির পর সেটা থেকে কীভাবে টাকা রোজগার করবেন সে বিষয় সিদ্ধান্ত নিন ও সেই মতো বিজ্ঞাপন প্রোগ্রামে সাইন আপ করুন। অর্থাত্ আপনা ব্লগে বিজ্ঞাপনদাতারা বিজ্ঞাপন দেবেন, বিনিময় আপনি টাকা পাবেন। আয় নির্ভর করে আপনার ব্লগের ট্রাফিকের ওপর। ব্লগ থেকে আয় থেকে বিস্তারিত জানতে এইখানে ক্লিক করুন। নিয়মিত লিখতে থাকুন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিন আপনার লেখা, ধীরে ধীরে পাঠক বাড়বে। আর পাঠক বাড়লেই বিজ্ঞাপন থেকে বেশি আয় হবে।

৫.সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট

সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন কোম্পানি গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ও বিজ্ঞাপনের জন্য বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নির্ভর করছে। আর এই কাজের জন্য তাদের প্রয়োজন হয় সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের কাজ জানা দক্ষ কর্মী।

অনেক ক্ষেত্রেই সর্বক্ষণের কর্মী নিয়োগ না করে এই কাজের জন্য বাইরের সংস্থা বা কর্মীর ওপর নির্ভর করে কোম্পানিগুলি। তাই আপনি যদি এই কাজে যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করতে পারেন তাহলে ঘরে বসে কম টাকায় ব্যবসা শুরু করেই আপনি রোজগার করতে পারবেন।

৬.ইউটিউব চ্যানেল

অনলাইনে ব্যবসার আরও একটি সহজ উপায় হল ইউটিউব চ্যানেল, বিষয় হতে পারে যা খুশি। রান্না শেখানো থেকে বেড়ানো, গান থেকে দৈনন্দিনের টোটকা আপনার আগ্রহের যে কোনও বিষয় নিয়েই ইউটিউব চ্যানেল খুলতে পারেন আপনি।

যদি যথেষ্ট সংখ্যক দর্শক আপনার চ্যানেল বা আপলোড করা ভিডিওগুলো দেখে তাহলে বিজ্ঞাপন বাবদ টাকা পাবেন আপনি। তবে ভিডিওর ভিয়্যু সংখ্য বাড়াতে আপনাকে হতে হবে নিয়মিত ও অভিনব। যাতে অন্যান্য চ্যানেল বাদ দিয়ে আপনার চ্যানেল দেখে দর্শক। ভিডিওর গুণমানের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

৭.ফটোগ্রাফি

ডিজিটাল প্রযুক্তি আসার সঙ্গে সঙ্গে ফটোগ্রাফির ব্যবসা হয়ে গেছে অনেক সহজ আর ঝক্কিহীন। স্টুডিও বা ডার্করুমের আর প্রয়োজন নেই। ভাল ডিএসএলআর ক্যামেরা আর একটা কম্প্যুটার থাকলেই শুরু করা যায় এই ব্যবসা। বিয়ে থেকে কর্পোরেট ইভেন্ট যেকোনও অনুষ্ঠানে ছবি তুলে হতে পারে ভাল আয়।

প্রথমেই বুঝে নিতে হবে ক্রেতার পছন্দ ও চাহিদা আর সেই মতো তুলতে হবে ছবি। ব্যবসার শুরুর দিকেই বানিয়ে ফেলুন নিজের পোর্টফোলিও, ব্যবসা পাওয়া সহজ হবে। নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকলে ক্রেতার কাছে পৌঁছনো অনেক সহজ হয়। ছোট অনুষ্ঠান দিয়ে শুরু করলে ধীরে ধীরে বিভিন্ন কোম্পানির প্রডাক্ট বা মডেল শ্যুটেরও ডাক পেতে পারেন।

৮.ক্যাটারিং সার্ভিস

আরেকটি অন্যতম বেশি লাভের ব্যবসা হল ক্যাটারিংয়ের ব্যবসা। বিয়েবাড়ি থেকে অফিসের বার্ষিক সম্মেলন ক্যাটারিয়ের চাহিদা সর্বত্র। বড় শহর হোক বা গ্রাম, উৎসবে অনুষ্ঠানে যেকোনও জায়গাতেই ডাক পড়ে ক্যাটারারদের।

কম টাকায় ব্যবসা শুরু করতে হলে এই ব্যবসার কথা ভেবে দেখতে পারেন। ব্যবসা শুরু করতে প্রথমেই প্রয়োজন একটা নির্ভরযোগ্য টিম। সন্তোষজনক পরিষেবাই এই ব্যবসার মূল, তাই আপনার টিম হতে হবে পরিশ্রমী, হাসিখুশি ও নির্ভরযোগ্য। এছাড়া কিনতে হবে প্রয়োজনীয় বাসনপত্র, গ্যাস উনুন ইত্যাদি।

বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। তাই এক বা একাধিক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলে বাড়তে পারে ব্যবসা।

৯.রেল ও বিমানের টিকিট বুকিং

অনলাইনে টিকিট কাটার সুবিধা থাকলেও অনেক সময়েই টিকিট পেতে সমস্যায় পড়েন যাত্রীরা। দূরপাল্লার রেলে রিজার্ভেশন পাওয়া নিয়ে নাজেহাল হতে হয় যাত্রীদের। আর তার জন্য প্রায়শই বুকিং এজেন্টদের মুখাপেক্ষী হন তারা। কম পুঁজিতেই এই ব্যবসা শুরু করা সম্ভব।

এজেন্ট হওয়ার জন্য রেল বা বিমান কর্তৃপক্ষকে কিছু টাকা দিতে হয় তাহলেই পাওয়া যায় সুযোগ। বিভিন্ন ট্যুর অপারেটর কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে নিলে নিয়মিত ব্যবসা পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশিই চুক্তি করা যেতে পারে অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যাতে সেই সংস্থার কর্মীদের অফিসের কাজে বাইরে যাওয়ার জন্য যাবতীয় টিকিট বুকের দায়িত্ব পান আপনি।

অনেক সংস্থাতেই কর্মীদের নিয়মিত শহর বা দেশের বাইরে যেতে হয় এবং এই টিকিট বুক করার জন্য কোনও নির্দিষ্ট কর্মী থাকে না, এই পরিষেবার জন্য বাইরের এজেন্টের ওপরই নির্ভর করে তারা। এই ব্যবসায় লাভ করতে হলে নিশ্চিত করতে হবে কম সময়ের মধ্যে যাতে আপনি প্রয়োজনীয় টিকিট বুক করে দিতে পারেন। তা পারলেই আপনার ওপর ভরসা বাড়বে ক্রেতার।

১০.ওয়েব ডিজাইনিং (Web Designing)

ইন্টারনেটের প্রসারে সাথে সাথেই বাড়ছে ডোমেন আর হোস্টিং পরিষেবার চাহিদা। বর্তমানে ছোট বড় প্রায় সব কোম্পানির জন্যই অনলাইন উপস্থিতি প্রায় বাধ্যতামূলক। প্রত্যেককে তৈরি করতে হয় নিজের ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইট তৈরি থেকে ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রতিটি ক্ষেত্রেই কোম্পানিরা সাধারণত নির্ভর করে বাইরের সংস্থার ওপর। খুব সহজেই এই কাজ শিখে নিয়ে কম টাকায় ব্যবসা শুরু করুন সফল ভাবেই ।