Home আন্তর্জাতিক জঙ্গী হামলার শিকার অস্ট্রিয়া

জঙ্গী হামলার শিকার অস্ট্রিয়া

শুভজিৎ দত্তগুপ্ত :পশ্চিম ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দেশটির রাজধানী ভিয়েনার অন্তত ছয়টি স্থানে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। এ ঘটনায় তিনজন নিহত ও কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দেশটির চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ এটাকে ‘ঘৃণ্য সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। কয়েক দশক পর দেশটিতে এমন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটলো।

ভিয়েনায় শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইহুদিদের প্রধান প্রার্থনাকেন্দ্রের কাছেই গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও হামলাকারীদের লক্ষ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শহরটির মেয়র জানিয়েছেন, হামলাকারীদের একজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আহত একজন নারীকে হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যায়। আহতদের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তাও আছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বর্ণনা করেন, স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে বন্দুকধারীরা স্থানীয় বার ও পাবগুলোতে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়েন। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে রাতের বেলা কারফিউ চলছে দেশটিতে। গতকাল কারফিউ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে সন্ধ্যায় বার ও পাবগুলোতে লোকদের বেশ ভিড় ছিল। তাদের লক্ষ্য করেই আক্রমণ চালিয়েছিলেন হামলাকারীরা। পরে পুলিশ গুলি চালিয়ে হামলাকারীদের একজনকে হত্যা করে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল নেহামার একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বহু বছরের মধ্যে অস্ট্রিয়ার জন্য এটা সবচেয়ে কঠিন দিন। আমরা এই সন্ত্রাসী আক্রমণ জোরালোভাবে মোকাবেলা করছি। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ; বহু বছরের মধ্যে আমরা এটা অনুভব করিনি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্যারিস, লন্ডন, বার্লিন ও ব্রাসেলসহ ইউরোপের অনেক রাজধানীতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটলেও ভিয়েনা এগুলোর বাইরে ছিল। পুলিশ বলছে, শহরটির প্রধান উপসনালয় হিসেবে পরিচিত ইহুদিদের একটি সিনাগগের কাছে এ হামলার সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে হামলা শুরুর সময় সিনাগগটি বন্ধ ছিল।

তবে সিনাগগ প্রহরার দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তাও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় একটি গণমাধ্যম। প্রাথমিকভাবে এখনো পরিষ্কার নয় যে এ হামলায় কতজন হামলাকারী অংশ নিয়েছিল। অস্ট্রিয়ার গণমাধ্যম বলছে, এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাবি শ্লোমা হফমিস্টার লন্ডনের এলবিসি রেডিওকে বলেন, গুলির শব্দ শোনার পর আমরা জানালা দিয়ে নিচে তাকিয়ে দেখি বন্দুকধারীরা বিভিন্ন বার ও পাবগুলোতে অতিথিদের ওপর গুলি চালাচ্ছে। তারা আমাদের ভবনের সামনে প্রায় ১০০ রাউন্ড বা তারও বেশি গুলি চালিয়েছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সীমান্তের চেক জোরদার করা হচ্ছে এবং মঙ্গলবার শিশুদের বিদ্যালয়ে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যদিও ভিয়েনার মেয়র মিইকেল লুডভিগ জানিয়েছেন, শহরটিতে কঠোর পুলিশি উপস্থিতি সত্ত্বেও মঙ্গলবার স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে। তবে তিনি নাগরিকদের বাড়িতে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, নরওয়ে, গ্রিস ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা এ হামলার নিন্দা জানিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনটি ছুরির আক্রমণ দেখা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁও একটি বিবৃতিতে হামলার নিন্দা ও শোক প্রকাশ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন পৃথক টুইট বার্তায় এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।

এর আগে সর্বশেষ ১৯৮৫ সালে একটি ‘ফিলিস্তিনি উগ্রপন্থী গোষ্ঠী’ বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে তিনজন বেসামরিক লোককে হত্যা করেছিল। তারও আগে ১৯৮১ সালে ভিয়েনার এই একই সিনাগগে দুই ফিলিস্তিনির আক্রমণে দুজন নিহত ও ১৮ জন আহত হয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

শীর্ষ সংবাদ

- Advertisement -

অন্য রকম