Home রাজ্য তৃনমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করলেন বিধায়ক মিহির গোস্বামী

তৃনমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করলেন বিধায়ক মিহির গোস্বামী

বঙ্গ রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন প্রায় শুরু হয়েই গিয়েছে, এর মধ্যে পিকে র বিরুদ্বে অনেক পোর খাওয়া তৃণমূল এর সঙ্গীরা এখন দলের থেকে সরে এসেছেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোচবিহার এর মিহির, মেদিনীপুর এর শুভেন্দু ।

কোচবিহার জেলায় তৃণমূল দলের নতুন জেলা ও ব্লক কমিটির তালিকা প্রকাশের পরই কোচবিহার দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি নেন তিনি, এমনকি মুখ্যমন্ত্রী চাইলে বিধায়কের পদও তিনি ছেড়ে দিতে পারেন পারেন বলে জানিয়েছিলেন। এরপর থেকেই দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অনেকটাই তলানীতে পৌঁছেছে। একাধিক ইশুতে কখনও দলের বিরুদ্ধে আবার কখনও প্রশান্ত কিশরের সংস্থার বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হতে দেখা গিয়েছে তাকে।

এই পরিস্তিতিতে গত ৩০ অক্টোবর বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামীর সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়িতে গিয়েছিলেন রাজ্য সরকারের দুজন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও বিনয় কৃষ্ণ বর্মন। তবে, মিহির বাবুকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি, জানানো হয়েছিল তিনি তাঁর দিদির বাড়ি আলিপুরদুয়ারে গিয়েছেন। কিন্তু সেখানে গিয়েও পাওয়া যায়নি তাঁকে। এই নিয়ে জেলায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। কারন, তার একদিন আগেই কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামানিকের সঙ্গে বাড়িতেই সাক্ষাৎ করেছিলেন মিহির গোস্বামী।

এ ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায় জেলার রাজনৈতিক মহলে। এরপর গত ২৪ নভেম্বর ফের মিহির গোস্বামীর বাড়িতে যান তৃনমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্র নাথ ঘোষ। দুজনের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়। তবে সরাসরি না বললেও তিনি যে দলে ফিরছেন না তা তার কথাতেই সেইদিনই পরিষ্কার হয়ে যায়। এরপর আজ দলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করলেন বিধায়ক।

এদিন ফেসবুকে বিধায়ক লেখেন, “গত ৩ অক্টোবর ২০২০ তারিখে তৃণমূল কংগ্রেসের যাবতীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এও জানিয়েছিলাম, দলনেত্রীর নির্দেশ পেলে আমি বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দিতে পারি। তারপর প্রায় দুমাস হতে চলল আমি যেমন নিজের বিবেকের সঙ্গে ও নিজের যুক্তিবোধের সঙ্গে চিন্তন-মন্থন করেছি তেমনই আমার ভাবনাকে মানুষের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত শেয়ার করেছি। যে সব মানুষ আমার ভাবনাকে যুক্তিযুক্ত ভেবে স্বাগত জানিয়েছে তাঁদের উদ্দেশ্যেই আবার বলি, গত দশ বছর যে তৃণমূল দলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে দলের মধ্যে বারবার অবহেলিত ও অপমানিত হয়েছি, দলের রাজ্য নেতৃত্ব তাতে নীরব ও প্রচ্ছন্ন মদত যুগিয়ে গিয়েছেন, দলনেত্রীকে সেসব কথা বারংবার জানিয়েও পরিস্থিতির ইতরবিশেষ হয়নি। আজ সব সহ্যের সীমা অতিক্রম করার সময় অনুভব করেছি, বাইশ বছর আগে যে দলটির সঙ্গে যোগ দিয়েছিলাম, আজকের তৃণমূল সেই দল নয়। এই দলে আমার জায়গা নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

শীর্ষ সংবাদ

- Advertisement -

অন্য রকম