fbpx
Saturday, July 24, 2021
Homeআন্তর্জাতিকসম্পূর্ণ নিরাপদ Covid19 ভ্যাকসিন জানালোঅক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি

সম্পূর্ণ নিরাপদ Covid19 ভ্যাকসিন জানালোঅক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি

দৈনিক ডেস্ক, ২১ শে জুলাই:-সম্প্রতি জানতে পারা যায়, মানুষের শরীরে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও নিরাপদ এই ভ্যাকসিনটি আবিষ্কার করে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি। শরীরে টি-কোষ সক্রিয় হয়েছে মাত্র এক ডোজেই। এই ভ্যাকসিন যাদেরকে দেওয়া হয়েছে তাদের ৯০% শরীরেই লক্ষ্য করা যায় অ্যান্টিবডির। ব্রিটেনের ঐতিহ্যশালী এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্টে তা সামনে আনল।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ভ্যাকসিন তৈরিতে কতটা এগোল, এতদিন সেই অপেক্ষাই চলছিল। ‘দ্য ল্যানসেট’ নামক মেডিক্যাল জার্নাল এবার সেই রিপোর্টই সামনে আনল। ল্যানসেট জার্নাল জানিয়েছে, ১০৭৭ জন স্বেচ্ছাসেবককে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। প্রায় প্রত্যেকের শরীরেই টি-কোষ (T-Cell)সক্রিয় হয়েছে এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে। শরীরে বেড়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও। প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্ট দেখে ইতিমধ্যেই ব্রিটিশ সরকার দশ কোটি ভ্যাকসিনের অর্ডার দিয়ে দিয়েছে।

অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিন কীভাবে তৈরি? কীভাবে সক্রিয় করছে টি-কোষকে?
অক্সফোর্ডের ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্টের টিম জেন্নার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের সাহায্যে ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড) টেকনোলজি ব্যবহার করে ভেক্টর ভ্যাকসিন ChAdOx1 nCoV-19 ক্যানডিডেট ডিজাইন করেছে। ভ্যাকসিন গবেষণায় রয়েছেন অক্সফোর্ডের ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্ট, অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড, টেরেসা লাম্বে, ডক্টর স্যান্ডি ডগলাস ও অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল। পরে অক্সফোর্ডের সঙ্গে এই ভ্যাকসিন গবেষণায় যুক্ত হয় ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি অ্যাস্ট্রজেনেকা। সারা গিলবার্টের টিম জানিয়েছে, অ্যাডেনোভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে তৈরি এই ভেক্টর ভ্যাকসিন মানবদেহের বি-কোষ (B-Cell) ও টি-কোষকে (T-Cell) উদ্দীপিত করে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি করবে। যেহেতু নিষ্ক্রিয় অ্যাডেনোভাইরাসকে ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে তাই মানুষের শরীরে এই ভ্যাকসিনের কোনও ‘অ্যাডভার্স এফেক্ট’দেখা যাবে না।

গবেষক অ্যান্ড্রু পোলার্ড জানিয়েছেন, ‘এই টি-কোষ হল শরীরের রোগ প্রতিরোধের মূল বর্ম। বেশিরভাগ ভ্যাকসিনই অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়াকেও যেমন সক্রিয় করে তেমনই টি-কোষকে সক্রিয় করে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। ভ্যাকসিনে কাজ হলে ইঞ্জেকশন দেওয়ার ১৪ দিনের মাথায় টি-কোষ সক্রিয় হয়ে ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে তুলতে শুরু করে। বি-কোষ সক্রিয় হয়ে অ্যান্টিবডি তৈরি করে ২৮ দিনের মাথায়। অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনও তাই করেছে। ৯০ শতাংশ মানুষের শরীরে এক ডোজেই অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে। বাকি ১০ শতাংশকে দুটি ডোজ দেওয়া হয়েছিল। তাদের শরীরেও পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে।’

গবেষক পোলার্ড এও জানান সামান্য কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে মারাত্মক কিছু নয়। ভ্যাকসিন দেওয়ার একদম পর পরই ৭০% স্বেচ্ছাসেবকের হালকা জ্বর ও মাথাব্যথা হয়। তবে তা কিছুদিনের মধ্যেই সেরে যায়।

এপ্রিল থেকেই অক্সফোর্ডে এই টিকার ট্রায়াল শুরু হয়েছিল । প্রথমে দু’জনের শরীরে ইনজেক্ট করা হয়েছিল ভ্যাকসিন। তাঁদের মধ্যে একজন মহিলা বিজ্ঞানী, নাম এলিসা গ্রানাটো। তারপর প্রথম পর্যায়ে কম সংখ্যক মানুষের শরীরে টিকার পরীক্ষা করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে হাজারের বেশি জনকে টিকা দেওয়া হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালাচ্ছিল অক্সফোর্ড। এই পর্যায়ের ট্রায়ালেও টিকার প্রভাব সন্তোষজনক বলেই দাবি করা হয়েছে। যদিও এখনও অবধি শুধু প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্টই সামনে এসেছে।

ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকাতে এই টিকার ট্রায়াল শুরু হয়েছিল ব্রিটেনে অক্সফোর্ডের টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলার সময়েই। ব্রাজিলে করোনার হটস্পট সাও পাওলো ও রিও দে জেনিরোতে তিন হাজারজনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। অন্যদিকে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির তত্ত্বাবধানেই দক্ষিণ আফ্রিকায় এই টিকার হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করে উইটওয়াটারস্র্যান্ড ইউনিভার্সিটি তথা উইটস। বেছে নেওয়া হয় ২ হাজার জন স্বেচ্ছাসেবককে। শেষে অক্সফোর্ডের টিকার ট্রায়ালের এই রিপোর্ট ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকায়ও ভালর দিকেই বলে জানা গিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

শীর্ষ সংবাদ

অন্য রকম