fbpx
Friday, July 30, 2021
Homeরাজ্যকোর্টের রায়ে আতসবাজি পোড়ানোয় নিষেধাজ্ঞায় স্বস্তিতে পশুপ্রেমী মানুষেরা

কোর্টের রায়ে আতসবাজি পোড়ানোয় নিষেধাজ্ঞায় স্বস্তিতে পশুপ্রেমী মানুষেরা

শুভজিৎ দত্তগুপ্ত :রাজস্থান,কর্ণাটক,ওড়িশার পথে হেঁটেবাজি পোড়ানো নিষিদ্ধ হলো পশ্চিমবঙ্গে। একদিনে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি অন্যদিকে শীতের মরসুম। এর মধ্যে বাজির ধোঁয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।সেজন্যই কালীপুজো থেকে ছট পুজো অবধি জনস্বার্থে আতসবাজি পোড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কোলকাতা হাইকোর্টের গ্রীন ট্রাইবুনাল।

কালীপূজা ও দীপাবলী উপলক্ষ্যে শব্দবাজি, আতসবাজি পোড়ানোর ফলে পরিবেশে যে দূষণ ছড়ানো হয় তার মারাত্মক প্রভাব পড়ে মানুষ ও সমগ্র প্রকৃতির ওপর৷ শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা করা, চর্মরোগ ও অন্যান্য শ্বাসনালীর ক্ষতিকারক মারাত্মক ব্যাধির দ্বারা মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী হয় আক্রান্ত৷ শব্দবাজী, মাইক ও ডিজে-র মাত্রাতিরিক্ত ভয়ঙ্কর শব্দে পশু, পাখী, শিশু, বৃদ্ধদের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে৷ কালীপুজো, দীপাবলিতে শব্দবাজির তাণ্ডব থামানো যায়নি কিছুতেই। এতে ক্ষতি শুধু মানুষের নয়, ক্ষতি আমাদের আশেপাশের প্রাণীগুলোর। শব্দবাজি নিয়ে কিছু মানুষের ‘আনন্দের’ খেসারত দিতে গিয়ে দুর্বল হৃদয়ের ছোট প্রজাতির কুকুরের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এমনকী, কালীপুজোর পরের দিন বড় গাছের তলায় পাখির দেহ পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। স্পিড্জ, পমেরেনিয়ান, বিগল, ককার স্প্যানিয়েল-এর মতো ছোট প্রজাতির কুকুর ছাড়াও শব্দবাজিতে কষ্ট পায় বেড়াল, খরগোশ, গিনিপিগ, পাখি।এদের মধ্যে খরগোশ ও পাখি সন্ধ্যার পরে বিশ্রাম করে। সেই সময়ে শব্দবাজি ফাটে বলে তাদের কষ্ট অনেক বেশি হয়। বাজির আওয়াজ শুনে তাঁর কুকুরের হৃৎস্পন্দন অনেক গুণ বেড়ে যায় অনেক ক্ষেত্রেই তাদের উদ্বেগ কমাতেনা ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। পাশাপাশি পথে থাকা কুকুরদের ওপর বাজির আক্রমণ করেন কিছু মানুষ ,আহত ও নিহত হয় অনেক কুকুর।

তাই কোলকাতা হাইকোর্টের গ্রীন ট্রাইবুনালের এই রায়ে সাময়িক ভাবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়েছেন পশুপ্রেমী সংগঠন গুলির সাথে যুক্ত মানুষজন। যদিও এই রায় দেওয়া হয়েছে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে মানুষ্য সমাজের কথা বিবেচনা করে তবুও এর ফলে উপকৃত হয়েছে মনুষ্যেতর প্রাণী সমাজ ,তারা চান শব্দবাজির এই নিষেধাজ্ঞা চিরস্থায়ী হোক।

পশুপ্রেমী সংগঠন Federation of Indian Animal Protection Organisations(FIAPO ) এর তরফ থেকে দেবযানী মুন্সী হাইকোর্টের গ্রীন ট্রাইবুনালের রায় কে স্বাগত জানিয়ে বলেন , করোনা পরিস্থিতিতে মানবসমাজের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে কোর্ট এই রায়দান করলেও এই একটা বছর অন্তত স্বস্তি পাবে কুকুর ,ছোট পাখী সহ নানা প্রাণী। দীর্ঘদিন ধরে মূলত কুকুরদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে দেবযানী মুন্সী জানান রাস্তায় থাকা কুকুরদের কাছে এই সময়টা ভয়ঙ্কর ,একদিকে শব্দবাজির তান্ডবে অন্যান্য প্রাণীদের মতো তারা যেমন বিপর্যস্ত বোধ করে অপরদিকে তাদের গায়ে জ্বলন্ত পটকা ছুড়ে মেরে বা সেটা খাইয়ে দিয়ে জান্তব আনন্দ অনুভব করেন কিছু মানুষ। কেরলের মালাপ্পুরম জেলার অন্তর্গত একটি গ্রামে গত ২৭ মে খাবারের খোঁজে গ্রামে ঢুকে পড়া একটি গর্ভবতী হস্তিনীকে আতসবাজি বাঁধা আনারস ছুড়ে দেয় গ্রামবাসীরা। অগাধ বিশ্বাসে সেটা গিলে ফেলতেই মুখের মধ্যে আতসবাজি ফেটে শুঁড় এবং মুখের ভিতরে গুরুতর ক্ষত হয় হস্তিনীটির। অব্যক্ত যন্ত্রণায় গ্রামময় ছোটাছুটি করলেও কাউকে আঘাত করেনি বা কোনও কিছু ভাঙচুর করেনি হস্তিনীটি। অবশেষে যন্ত্রণা উপশমের চেষ্টায় নদীর ভিতর শুঁড় ডুবিয়ে দাঁড়ায় অসহায় প্রাণীটি। আর সেখানেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়ার ফলে তীব্র প্রতিবাদ উঠলেও পথকুকুরদের বিষয়ে সেরকম কোনো প্রতিবাদ ধ্বনিত হয় না। দেবযানী মুন্সী জানান তাদের লড়াই চিরস্থায়ী ভাবে শব্দবাজী , আতসবাজি পোড়ানো বন্ধ হওয়া অবধি চলবে। তারা আইন গত পরিবর্তনের প্রচেষ্টা চালিয়েযাবেন নিজেদের লড়াইয়ের মাধ্যমে। তিনি বাজী এর পেছনে খরচ করা অর্থ গরীব দের কল্যানে খরচ করবার ওপর জোর দেন।

অপর একটি পশুপ্রেমী সংগঠন Love n Care for Animals এর সাথে যুক্ত সংগঠক শিলাদিত্য চক্রবর্তী কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আতশবাজির নিয়ে কুকুরদের ভয় দেখানো এবং আক্রান্ত হওয়া নিয়ে সোচ্চার হন।এই সময়ে নানা স্থানে অবলা প্রাণীরা যেভাবে আক্রান্ত হয় তার কথা তুলে ধরে শিলাদিত্য চক্রবর্তী বলেন এই রায় শুধু একটা বছরের জন্য নয় এই রায় চিরস্থায়ী হওয়া দরকার। কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে আতশবাজি নিষিদ্ধহওয়ার ফলে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষগুলো সমস্যায় পড়বেন এই যুক্তি কে খারিজ করে তিনি বলেন, সমাজের পক্ষে ক্ষতিকারক কোনো পেশা কে টিকিয়ে রাখার পক্ষে কোনো যুক্তিই বাস্তব সম্মত হতে পারেনা। তিনি বিকল্প পেশা সৃষ্টির ওপর জোর দিয়ে বলেন মাটির প্রদীপ ,মোমবাতি শিল্প এর বিকল্প হতে পারে।

আতসবাজি পোড়ানোয় নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়ে দমকল কর্মী শুভঙ্কর মাহাতো বলেন এই রায়ের ফলে এই রায়ের ফলে কুকুর বেড়াল রা অনেক ভালো থাকবে ,সুস্থ থাকবে ও নিরাপদ বোধ করবে। কারণ শব্দের ফলে একদিকে তারা শব্দবাজির ফলে তারা ভীত হয়ে পরে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তারা কিছু বিকৃত মনস্ক মানুষের দ্বারা হওয়া বাজীর আঘাতে আক্রান্ত হয়। করোনা মহামারী এবং পরিবেশ দূষণের কথা মাথায় রেখেই আতশবাজি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কোর্ট উদ্যোগী হলেও এর ফলে উপকৃত হবে প্রাণী সমাজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

শীর্ষ সংবাদ

অন্য রকম