টবে বরবটি চাষ পদ্ধতি

টবে বরবটি চাষ পদ্ধতি । ছোট টবেই বরবটি চাষ

টবে বরবটি চাষ পদ্ধতি
টবে বরবটি চাষ পদ্ধতি

টবে বরবটি চাষ পদ্ধতি : সংক্ষিপ্ত সার

বরবটি চাষ করার জন্য প্রয়োজন দোআঁশ এবং বেলে দোআঁশ মাটি। বেশ বড় আকারের টব, বা জলের বালতি জোগাড় করতে হবে। মাটি প্রস্তুত করার জন্য বেলে-দোআঁশ মাটি নিয়ে তাতে উপযুক্ত পরিমাণ গোবর সার মিশিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে রাখতে হবে।

কাছাকাছি কোন নার্সারি থেকে বীজ কিনে এনে আগের দিন রাতে জলে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে প্রায় দশ পনেরো দিন ধরে তৈরি করা মাটির মধ্যে বীজ দিয়ে উপরে ভালো করে গোবর সার দেওয়া মাটি দিয়ে ঢাকা দিয়ে দিন।

বেশ কিছুদিন পরে দেখবেন অঙ্কুরোদগম হয়ে মাটি ফুঁড়ে গাছ বেরিয়েছে। চারা বড় হলে চারিদিকে মাচা করে দিতে হবে। উপযুক্ত পরিমাণ জল দিতে হবে। আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। দশ দিন অন্তর অন্তর গোবর সার বা সরষের খোল পচা সার দিতে হবে। সার কখনোই গাছের গোড়ায় দেবেন না। গাছের গোড়া থেকে দূরে চারপাশে দিয়ে দিন।

পোকামাকড়ের আক্রমণ হলে যদি বাইরে থেকে কেনা রাসায়নিক কীটনাশক স্প্রে করতে না চান তাহলে দু লিটার জলের মধ্যে দু চামচ হলুদ গুঁড়ো দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে ৫-৬ দিন অন্তর অন্তর গাছে স্প্রে করুন। বীজ বোনার মোটামুটি ৫০ থেকে ৬০ দিন পরেই বরবটি সংগ্রহ করার উপযুক্ত হয়ে যায়।

বরবটির বৈশিষ্ট্য

গাছের দৈর্ঘ্য গড়ে ১৮-২০ ইঞ্চি। একেকটি গাছে বরবটি ধরে গড়ে ১৮ থেকে ২০টি। গবেষকদের মতে, দেশে প্রচলিত বরবটিগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম ছাদ বরবটি। একটি গাছ থেকেই ফলন পাওয়া যায় টানা ছয় মাস। এর মধ্যে প্রতিটি বরবটির আকার-আকৃতি, রং বা গুণ–মান অন্য যেকোনো বরবটির মতোই। বরং টবে চাষ হওয়ায় পরিবেশবান্ধব ও পোকামাকড়ের ঝামেলামুক্ত।

বরবটি চাষের কথা ভাবতেই প্রথমে সামনে আসে জমি নির্ধারণ, মাচা তৈরি বা অন্যান্য প্রস্তুতির কথা। কিন্তু এখন ছোট ছোট টবেই চাষ করা যাবে বরবটি। সম্প্রতি এমনই এক বরবটির জাত উদ্ভাবন করেছে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক।

বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, এই বরবটি চাষ হবে বাসার ছাদে, ছোট্ট টবে। বড় মাচার বদলে দরকার হবে একটি ছোট্ট কাঠি। ফল পাওয়া যাবে টানা ছয় মাস। নেই বাড়তি খরচ বা পরিচর্যার ঝামেলা

টবে বরবটি চাষ পদ্ধতি

দরকার সর্বনিম্ন ১০ ইঞ্চি আকারের একটি টব। টবে যেকোনো ধরনের মাটি হলেই চলবে। তবে এটেল–দোআঁশ বা বেলে–দোআঁশ মাটি হলে ভালো। প্রতিটি টবে একটি বীজ বপণ করতে হবে। বপণের চার থেকে পাঁচ দিনের মাথায় চারা গজাবে। গাছটি ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠলে খুঁটি হিসেবে দিতে হবে একটি বাঁশের কাঠি। পরিচর্যার অংশ হিসেবে শুরুতে আধা মুঠো ইউরিয়া, টিএসটি বা পটাশ সার দিলেই চলবে। গাছে ফলন ধরবে ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে। একেকটি বরবটির দৈর্ঘ্য হবে গড়ে ১২ ইঞ্চি। গাছটি রাখতে হবে রোদে।

চাষের সময়


কেগরনাটকী জাতটি পৌষ-মাঘ মাস ছাড়া সারা বছরই চাষ করা যায়। মধ্য মাঘ থেকে মধ্য আশ্বিনে চাষ করা যায় ঘৃতসুন্দরী ও গ্রীন লং। মধ্য ফাল্গুন থেকে মধ্য আশ্বিন পর্যন্ত চাষ করা যায় ১০৭০ জাতটি। উল্লেখিত জাতগুলোর মধ্যে কেগরনাটকী ও লালবেণী জাতের ফলন সবচেয়ে বেশি। তবে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সাধারণত বীজ বপন করা হয়। তাছাড়া আশ্বিন-অগ্রহায়ণ মাসেও বীজ বপন করা হয়। অন্যান্য সময়ও বোনা যেতে পারে।