ভারতের আমদানীকৃত পণ্যসম্ভারের মধ্যে বৃহৎ অংশ দখল করে রেখেছে চিন।ভারতের মোট ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ৪৫ শতাংশই প্রতিবেশি দেশটি থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে। সিআইআই-এর তথ্য অনুসারে, ভারত বিশ্ব থেকে যে পরিমাণ যন্ত্রাংশ ক্রয় করে থাকে তার এক তৃতীয়াংশ করা হয় চিন থেকে।তবে লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় লালফৌজের আগ্রাসনের পর থেকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে চিনা সংস্থাকে দেওয়া বরাত বাতিল করেছে নয়াদিল্লী। নিষেধাজ্ঞার আরোপ করা এসেছে Tiktok, Helo, Shareit, UC Browser-সহ শতাধিক চিনা অ্যাপের উপরে।এবার আরো একধাপ এগিয়ে ভারতে রেফ্রিজারেন্ট-সহ এয়ার-কন্ডিশনার (AC) আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী করে চীনকে আরো এক কষাঘাত করলো ভারত সরকার।

প্রতি বছর ভারতে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের এয়ার-কন্ডিশনার ভারতে আমদানি করা হয়। এর বড় অংশ আসে চিন থেকে। ২০২০ আর্থিক বছরের পরিসংখ্যান অনুসারে এর পরিমাণ ২৪ কোটি ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার। ফলে কেন্দ্রের নয়া নির্দেশিকায় যে চীন ই যে সবথেকে বেশি প্রভাবিত হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।এর আগে জুলাই মাসে টিভি সেট আমদানির ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম জারি করা হয়।

ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড-এর কাছ থেকে আমদানিকারকদের লাইসেন্স নেওয়ার কথা জানিয়েছিল কেন্দ্র। তবে ফ্রিজ-সহ এয়ার কন্ডিশনারের যে কোনও ধরনের আমদানির উপরই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রের মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়া রেফ্রিজারেন্টস-সহ এয়ার কন্ডিশন কোম্পানি গুলো লাভের মুখ দেখবে।

আত্মনির্ভর ভারত অভিযান অনুযায়ী এয়ার কন্ডিশন উৎপাদকে আত্মনির্ভর বানানোর জন্য সাহায্য করা হবে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রেফ্রিজারেন্টস-সহ এয়ার কন্ডিশনে নিষেধাজ্ঞা জারি করার সিদ্ধান্ত সরকার অনেকদিন ধরেই মাথায় রেখেছিল। কারণ এর থেকে ক্লোরোফ্লোরোকার্বন নির্গত হয়, যেটা পরিবেশের জন্য খুবই বিপজ্জনক।যদিও এর ফলে আগামী দিনে এদেশে AC-র দাম বাড়বে কি না, সেই বিষয়ে বাজার বিশেষজ্ঞরা এখনই কোনও মন্তব্য করতে রাজি নন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here