১৩৪ জন লক্ষ্মীর টাকা ঢুকল তৃণমূল উপপ্রধানের স্ত্রী ইরিনা ইয়াসমিনের অ্যাকাউন্টে! লক্ষীর ভান্ডার দুর্নীতি!

১৩৪ জনের তিনমাসের লক্ষীর ভান্ডারের টাকা চলে গিয়েছে ১৫৯ নং বুথের উপপ্রধান হাসানুর জামানের স্ত্রী ইরিনা ইয়াসমিনের অ্যাকাউন্টে।

১৩৪ জন লক্ষ্মীর টাকা ঢুকল তৃণমূল উপপ্রধানের স্ত্রী ইরিনা ইয়াসমিনের অ্যাকাউন্টে! লক্ষীর ভান্ডার দুর্নীতি!

লক্ষীর ভান্ডার (Laxmi Bhandar). এই প্রকল্পের আওতায় সাধারণ মহিলাদের দেওয়া হয় প্রতিমাসে 500 টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতির ভুক্ত মহিলাদের দেওয়া হয় প্রতিমাসে 1000 টাকা। ‌ ইতিমধ্যেই বাংলায় অনেক মহিলার অ্যাকাউন্টে তিন মাসের লক্ষীর ভান্ডার এর টাকা ঢুকে গিয়েছে।

 প্রকল্পের প্রারম্ভেই দেখা দিয়েছে দুর্নীতির চিত্র। উত্তর 24 পরগনার বাদুড়িয়া ব্লক এর জগন্নাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত তিলডাঙ্গা গ্রামের ১৫৮ নম্বর বুথের বাসিন্দা বেশ কয়েকজন মহিলারা লক্ষীর ভান্ডার এর ফর্ম পূরণ করে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সমস্ত কিছু ঠিকঠাক থাকলেও এবং মেসেজ এলেও তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। যার ফলে এর কারণ খতিয়ে দেখতে গিয়েই বেরিয়ে এলো এক বড়োসড়ো দুর্নীতি।

কি ঘটনা ঘটেছে?

তিলডাঙা গ্রামের বেশ কিছু মহিলারা মোবাইলে মেসেজ পেলেও তাদের অ্যাকাউন্টে ঢোকে নি টাকা। তিনমাস ধরে তারা অপেক্ষা করলেও তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা না ঢোকায় তারা বেশ কয়েকজন বাদুড়িয়া বিডিও (BDO) অফিসে অভিযোগ জানাতে যান।সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন তাদের এবং সেইসাথে মোট ১৩৪ জনের তিনমাসের লক্ষীর ভান্ডারের টাকা চলে গিয়েছে ১৫৯ নং বুথের উপপ্রধান হাসানুর জামানের স্ত্রী ইরিনা ইয়াসমিনের অ্যাকাউন্টে। প্রিন্ট আউট নিতেই তারা সমস্ত কিছু জানতে পারেন।

এই বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন ইরিনা ইয়াসমিন, তবে তিনি বলেছেন যে, কিভাবে এই টাকা তার অ্যাকাউন্টে ঢুকলো সে সম্পর্কে তার কিছু জানা নেই। তিনি বলেছেন যে কেউ চক্রান্ত করেই ১৩৪ জনের লক্ষীর ভান্ডারের টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিয়েছে। এরপরে বিডিও সুপর্ণা বিশ্বাস,  ইরিনা ইয়াসমিন কে নির্দেশ দেন যে, যাদের যাদের টাকা তার অ্যাকাউন্টে গিয়েছে সকলের প্রাপ্য টাকা যেন তিনি ফিরিয়ে দেন, সেই সাথে প্রশাসনিক কর্তাদের এই বিষয়টি স্বচ্ছভাবে করার নির্দেশ দিয়েছেন বিডিও।