Home মালদা সংসারের কাজ করেও উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে সম্ভাব্য পঞ্চম প্রাণগোবিন্দ!

সংসারের কাজ করেও উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে সম্ভাব্য পঞ্চম প্রাণগোবিন্দ!

মালদা, নিজস্ব প্রতিনিধি: বাবা ভাগচাষি ও মা কৃষিশ্রমিক। ছেলেকেও অনেক সময় ঘাষ কাটতে যেতে হয় বিভিন্ন জায়গায়। বাবা-মা’র অবর্তমানে কখনও রান্না করে কখনও সেলাই মেশিনে টুকটাক কাজও করে সে।এই সবের পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে গেছে প্রাণগোবিন্দ। ছোটো থেকেই সে নিজের মেধার পরিচয় রেখে তার পড়াশোনার মধ্যে দিয়ে। আর এবারেও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সেই ছাত্রই পেয়েছে ৪৯৫ নম্বর,রাজ্যে সম্ভাব্য পঞ্চম৷

পুরাতন মালদার যাত্রাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের পোপড়া গ্রামের বাসিন্দা মণ্ডল পরিবার। প্রাণগোবিন্দ,তার বাবা পুতুল মণ্ডল ও মা নিভা মণ্ডল -এর সাথে থাকে।তারা চার ভাইবোন, দুই দিদির বিয়ে যাওয়ার সে, তার ভাই ও বাবা-মা থাকে পোপড়া গ্রামে। স্থানীয় পোপড়া ঈশ্বরলাল হাইস্কুলেই পড়তো সে। সে এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে৷
১৭ই জুলাই মাঠ থেকে ফিরে সে দেখে, বাড়িতে প্রচুর মানুষের ভিড় ৷এমনকি জেলা শিক্ষা দপ্তরের লোকজনও রয়েছে মানুষের ভিড়ে৷ তাঁরা এসেছেন প্রাণগোবিন্দ -কে শুভকামনা জানাতে৷ তখনই সে নিজের পরীক্ষার ফল জানতে পারে,তার আগে সে পরিক্ষার ফল জানতে পারেনি।

আর্থিক সংকট ও দরিদ্রতার কারণেই কোনও গৃহশিক্ষকের কাছে পড়েনি সে৷ সংসারের সব কাজ সামলে দিনে ১৪ ঘণ্টা পড়াশোনা করার সময় পেতো প্রাণগোবিন্দ৷ পড়াশোনায় তাকে সবরকম সহযোগিতা করতেন স্কুলের শিক্ষকরা৷
প্রাণগোবিন্দ বলে, “এমন ফলে খুব ভালো লাগছে৷ রাজ্যে পঞ্চম হয়েছি৷ প্রথমে আমি নিজের ফল জানতে পারিনি৷ গতকাল মাঠ থেকে ঘাস কেটে ফেরার পর দেখি, বাড়িতে প্রচুর ভিড়৷ প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম৷ পরে জানতে পারি, আমার ফলের জন্য আমাকে সংবর্ধনা জানাতে এসেছেন সবাই৷ এই ফলের জন্য আমার দিদির কাছে আমি কৃতজ্ঞ৷ সে সবসময় আমাকে উৎসাহ জুগিয়ে এসেছে৷ সবসময় আমার পাশে থেকেছে৷ স্কুলের ভূগোল শিক্ষিকা শুক্লা চক্রবর্তী সহ অন্য শিক্ষকরাও আমাকে অসম্ভব সাহায্য করেছেন৷ বাবা-মা যেভাবে পরিশ্রম করে আমাকে পড়িয়েছেন তা কথায় বলা সম্ভব নয়৷ ভবিষ্যতে আমি আইএএস অফিসার হতে চাই৷ মানুষের জন্য কাজ করা আমার লক্ষ্য৷ আপাতত ভূগোল নিয়ে পড়ার ইচ্ছে রয়েছে৷”

প্রাণগোবিন্দ মণ্ডল বাংলায় ৯৫, ইতিহাসে ১০০, শিক্ষাবিজ্ঞানে ১০০, ভূগোলে ১০০ ও সংস্কৃতে ১০০ নম্বর পেয়েছে৷ছেলের এই সাফল্যে গর্বিত নিভাদেবীও।তিনি বলেন, “যেভাবে আর্থিক অনটনের মধ্যেও সে পড়াশোনা করেছে, তা ভাবা যায় না৷ সব কাজ সামলে সে এই ফল করেছে৷ আমি ওর জন্য গর্বিত৷”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

শীর্ষ সংবাদ

- Advertisement -

অন্য রকম